আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় : অভিনন্দন
স্পোর্টস রিপোর্টার

বাংলাদেশের দেয়া ৩০৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২১৮ রানে থেমে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস। এ জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ ঝুলিতে পুরল বাংলাদেশ।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের কাছে পাত্তা পেল না আফগানিস্তান। রানপাহাড়ে চাপা পড়ে তাদের হারতে হল ৮৮ রানে। বাংলাদেশের দেয়া ৩০৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২১৮ রানে থেমে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস।
এই জয়ের সুবাদে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ ঝুলিতে পুরল বাংলাদেশ। এক সঙ্গে ইংল্যান্ডকে টপকে সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
১০০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। আর পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে দুইয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে অবস্থান করছে ভারত।
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া পাহাড়সম রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকে ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে আফিফ হোসেনের দারুণ ফিল্ডিংয়ে সফরকারীরা হারায় তাদের প্রথম উইকেট।
রান তাড়ার গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে শরীফুল ইসলামের প্রথম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেয়ার সময় আফিফের সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প হারান আফগান ওপেনার রিয়াজ হাসান। ১ রান করে তাকে সাজঘরের পথ ধরতে হয়।
তিনি যখন সাজঘরে ফিরে যান সে সময় স্কোরবোর্ডে দলের রান ছিল ৯। পরে উইকেটের খাতায় নাম তোলেন শরীফুল নিজে। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে আউট করেন তিনি। উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে সফরকারী দলের অধিনায়ক করেন ৫।
পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে আঘাত হানেন সাকিব। আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ধরাশায়ি করেন বাঁহাতি এই স্পিনার। এরই সুবাদে ৩৪ রান তুলতেই তিন টপ অর্ডার সাজঘরে ফেরে আফগানিস্তানের।
উইকেট আগলে বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে নিয়ে আসার মিশনে নামেন রহমত শাহ ও নাজিবুল্লাহ জাদরান। তাদের ৮৯ রানের জুটিতে ভর করে ট্র্যাকে ফেরে সফরকারীরা। এই দুই ব্যাটারের কারণে লড়াইয়ে ফেরার সম্ভাবনা দেখা দেয় আফগানদের। সেই সম্ভাবনা শেষ করেন তাসকিন। তার ডেলিভারি রহমত শাহের স্টাম্পের বেইল ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটের পেছনে আর তাতে ৭১ বলে ৫২ করে সাজঘরে ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।
ম্যাচের ২৯ তম ওভারে তাসকিনের সুবাদে ফিরতে হয় সেট হয়ে বসা আরেক ব্যাটার নাজিবুল্লাহ জাদরানকে। ৫৪ রান করা নাজিবুল্লাহকে কট বাহাইন্ডে ফেরান তাসকিন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ঝুলে পড়া এক ডেলিভারিতে রহমানুল্লাহ গুরবাজকে হারিয়ে খাদের কিনারায় ঠেলে দেন সফরকারীদের।
এরপর সেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব হয়নি সফরকারীদের। ১৩.৪ বলে বাকি ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ফলে ২১৮ রানে থেমে যায় সফরকারীদের ইনিংসের চাকা। আর বাংলাদেশ পায় ৮৮ রানের দুর্দান্ত এক জয়। দুটি করে উইকেট পান সাকিব ও তাসকিন। ১টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজ, মিরাজ, মাহমুদুল্লাহ, আফিফ ও শরীফুল।
এর আগে সাগরিকায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৩০৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস ২৩৬ ও মুশফিকুর ৮৬ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে এ দুই ব্যাটার যোগ করেন রেকর্ড ২০২ রান।
এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশকে দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




