বহিষ্কৃত হয়ে শান্তির বার্তা ছড়াল রাশিয়ান ফুটবল ক্লাব
স্পোর্টস রিপোর্টার

কিছুদিন ধরে স্পার্তাক মস্কো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। না, ফুটবল মাঠের সাফল্য এতে ছিটেফোঁটাও ভূমিকা রাখছে না। ইউরোপা লিগে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে ছিল দলটি, কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলে তথৈবচ অবস্থা ক্লাবটির। রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ১৯ ম্যাচে মাত্র ২৩ পয়েন্ট দলটির। আগামী মৌসুমে ইউরোপিয়ান ফুটবলের ক্লাব প্রতিযোগিতার তৃতীয় স্তর কনফারেন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন করতে হলেও আরও ৫টি ক্লাবকে টপকাতে হবে তাদের।
তবু ক্লাবটির অনুসারী দিন দিন বাড়ছিল। রাশিয়ান এই ক্লাবের টুইটারের অ্যাডমিনের সেন্স অব হিউমার ও যেকোনো মুহূর্তে রসিকতা করতে পারার ক্ষমতা ক্লাবটিকে নতুন পরিচয় এনে দিয়েছিল। ইউরোপা লিগ, সেখানে বার্সেলোনার মতো ক্লাবের সঙ্গে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে মজার মজার টুইট উপভোগ করতেন সবাই। কিন্তু অন্তত এই মৌসুমের জন্য আর এমন টুইট দেখা যাবে না।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার জেরে সব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা ও উয়েফা। এ কারণে ইউরোপা লিগ থেকে ছিটকে গেছে স্পার্তাক মস্কো। উয়েফার কাছ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসার পর হতাশ ক্লাবটি বলেছে, খেলার কাজ সম্পর্ক সৃষ্টি, সম্পর্ক নষ্ট করা নয়।
আগামী ১০ ও ১৭ মার্চ ইউরোপা লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলার কথা ছিল স্পার্তাকের। জার্মান ক্লাব লাইপজিগের বিপক্ষে দুই লেগ নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিল ক্লাবটি। আগামী মৌসুমে ইউরোপে খেলতে চাইলে ঘরোয়া লিগের চেয়ে এখন সর্বশক্তি দিয়ে ইউরোপা লিগ জেতার চেষ্টা করাটাই তাদের জন্য বেশি যুক্তিযুক্ত ছিল। ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণ করার পরও ক্লাবটি আশায় ছিল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে পারবে তারা।
গতকাল সন্ধ্যায় অবশ্য সে আশা শেষ বলে খবর দিয়েছিল বিল্ড। জার্মান পত্রিকা বলেছিল— নিজেদের ক্যালেন্ডার থেকে এই ম্যাচের সূচি মুছে দিচ্ছে উয়েফা। রাশিয়ায় তো কোনো ম্যাচ হবেই না, এমনকি নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও রাশিয়ার কোনো ক্লাবকে খেলতে দিতে রাজি নয় উয়েফা। রাতেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সব খেলার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়ার সব অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে।
ফিফা ও উয়েফা গতকাল রাতেই সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। চলতি মাসে কাতার বিশ্বকাপের প্লে–অফ ম্যাচ খেলতে পারবে না রাশিয়ার ছেলেদের জাতীয় দল। জুলাইয়ে ইউরোর মূল পর্বেও খেলতে পারবে না মেয়েদের দল। ফিফা ও উয়েফার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়— ‘ফিফা ও উয়েফা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়ার যেকোনো দল, সেটা জাতীয় দল কিংবা ক্লাব, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিফা ও উয়েফার প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ থাকবে। ফুটবল পুরোপুরি সংহত এখন, ইউক্রেনে ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশেই আছে। দুই (ফিফা ও উয়েফা) সভাপতিই আশা করছেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে এবং ফুটবল আবারও ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হয়ে উঠবে।’
শুধু জাতীয় দল নয়, ক্লাব পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করা হয়েছে। মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় এবার তিনটি টুর্নামেন্টে রাশিয়ার দলগুলোর মধ্যে শুধু টিকে ছিল স্পার্তাক মস্কো। কাল রাতে এ সিদ্ধান্ত জানার পরই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে ক্লাবটি। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এভাবে বহিষ্কার হওয়ায় হতাশা জানিয়েছে ক্লাবটি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে— ‘উয়েফা ও ফিফা এবারের ইউরোপা লিগ থেকে আমাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অর্থ, লাইপজিগের বিপক্ষে আমাদের শেষ ষোলোর ম্যাচটি আর হচ্ছে না। ইউক্রেনে সম্প্রীতি যা ঘটছে, তা নিয়ে সংস্থা দুটির অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত এই সিদ্ধান্ত।’
‘উয়েফা ও ফিফার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত হলেও খুবই দুঃখজনক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইউরোপা লিগে আমাদের ক্লাব যে কষ্ট করেছে, সেটা খেলার পরিসীমার অনেক বাইরের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
‘স্পার্তাকের ভক্ত শুধু রাশিয়া নয়, সারা বিশ্বে আছে। আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতা বিশ্বের অনেক দেশকে এক করে দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, একদম কঠিন সময়েও খেলার কাজ সম্পর্ক সৃষ্টি করা, নষ্ট করা নয়। আমাদের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হচ্ছে যার সঙ্গে আমরা একমত নই।’
‘আপাতত আমরা ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেই মনোযোগ দেব। আর আশা করব খুব দ্রুত শান্তি ফিরে আসবে, সবার সেটাই বেশি দরকার।’




