ত্বকী হত্যার ৯ বছর: যতোদিন বিচার হবে না, ততোদিন রাজপথে থাকার প্রত্যয়
সময় সংগ্রহ

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ৯ বছরে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। আজ রবিবার সকাল সাড়ে নয়টায় বন্দর উপজেলার মোল্লা বাড়ি এলাকায় ‘সিরাজ শাহর আস্তানায়’ ত্বকীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা। এ সময় সেখানে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।
ত্বকীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান— নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, জেলা বাসদের সমন্বয়ক নিখিল দাস, জেলা সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর, সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, প্রদীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ, খেলাঘর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মহসিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুফিয়ান, গণসংহতি আন্দোনের জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন— ‘৯ বছরেও আমাদের সন্তান ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া দুঃখজনক। দেশে অনেক আলোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং সেগুলোর বিচারও হয়েছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, ত্বকী হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হোক। ত্বকী হত্যার সঙ্গে প্রভাবশালী পরিবার জড়িত থাকায় হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ। আমরা চাই, এ ধারণা থেকে বের হয়ে এসে ত্বকী হত্যার বিচার করা হোক। আমরা চাই না, এ বিচারের দাবিতে প্রতি মাসে মানুষ রাস্তায় দাঁড়াক। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার করা হোক।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর বলেন— ‘যতই আঘাত আসুক না কেন, আমরা ত্বকী হত্যার বিচার চাই। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা করেই ছাড়ব। যত দিন ত্বকী হত্যার বিচার না হবে, তত দিন আমরা রাজপথে থাকব, আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
নারায়ণগঞ্জ বাসদের সমন্বয়ক নিখিল দাস বলেন— ত্বকী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে না। অবিলম্বে বিচার শুরু করার দাবি জানান তিনি।
সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন— খুনিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আজমেরী ওসমানসহ ত্বকীর ঘাতকদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান— আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান— আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন ঘাতক ত্বকীকে হত্যা করেছেন। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। তবে এ পর্যন্ত তা করা হয়নি। ত্বকী হত্যার বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদান ও বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। এ ছাড়া প্রতিবছর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নানা কর্মসূচি আয়োজন করছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ।
সৌজন্যে : প্রথম আলো




