সিলেটে আটককৃত ট্রাক ছাড়িয়ে নিতে শ্রমিকদের ৭ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ
স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটে মাটিভর্তি ট্রাক আটকানোয় ছাড়িয়ে নিতে সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। প্রায় ৭ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ জেলার সব কয়টি সড়ক। এ সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ট্রাক এলোপাতাড়ি করে রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। এতে সকালে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
পুলিশ ও শ্রমিকর সূত্র জানায়— সোমবার রাত ১১টায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৪টি ট্রাক মাটি উত্তোলন করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক মাটিভর্তি ট্রাকগুলো আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। তারা রাস্তায় এলোপাতাড়ি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অবরোধ করেন। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
সিলেট ট্রাক মালিক সমিতির সেক্রেটারী আমির উদ্দিন বলেন— নগরীর ৩নং ওয়ার্ডের একটি জায়গা মাটি কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এ সময় মাটি চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ মাটি বহনকারী ৫টি ট্রাক জব্দ করেন স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকসহ ৫টি ট্রাক কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। এরপর রাত ২টার দিকে শ্রমিক নেতা কালা মিয়া থানায় যান। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে পুলিশের এক কনস্টেবল কালা মিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ খবরে তাৎক্ষণিক নগরীর উপশহর ও কুমারগাঁওয়ে রাস্তায় ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন— ট্রাকগুলো ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে। এখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মাটি বহন করার কথা নয়। কিন্তু কাউন্সিলর নিজের অধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে ট্রাকগুলি আটক করেন।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে সড়ক অবরোধ থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেকে সময়মতো কাজে বা অফিসে যেতে পারেননি। এ সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— কিছু একটা হলেই শ্রমিকরা রাস্তায় এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি না ফেলে আলোচনা করে সমাধান করা যায় না? এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন— কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েকের ৯৯৯-এ কল দেওয়ার মাধ্যমে কাল রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ট্রাকগুলা জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু মাটি চুরির অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
কনস্টেবল কর্তৃক কালা মিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার বিষয়ে তিনি বলেন— লাঞ্ছনার অভিযোগ মিথ্যা। সিসিটিভির ফুটেজ চেক করে আমরা ঘটনার সত্যতা পাইনি। তবে থানায় শ্রমিকরা এসে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি করে। এ সময় কিছুটা ঠেলাঠেলি-ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।




