বিদেশযাত্রীদের করোনা পরীক্ষা : অনুমোদন সুরম্য ভবনে, সেবা পরিত্যক্ত স্থানে!
সময় সংগ্রহ

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের করোনা পরীক্ষার ভোগান্তি কমাতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। প্রবাসীদেরকে গুরুত্ব দিয়ে সিলেটে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রথম অনুমোদন দেয়া হয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সীমান্তিককে। সীমান্তিক তাদের নিজস্ব সুরম্য ভবন দেখিয়ে অনুমোদন নেয় করোনা পরীক্ষার। কিন্ত তারা তাদের নিজস্ব ভবনে সেবা দিচ্ছে না। যেখানে সেবা দেয়া হচ্ছে সেখানে গিয়ে প্রবাসীদের নাক যেন কপালে উঠছে। সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্যই মিলেছে।
সিলেটে কোভিড পরীক্ষা নিয়ে সর্বপ্রথম জটিলতা দেখা দেয় ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির শুরুতে। বিদেমগামীদের জন্য যখন করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়, তখন সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে কোভিড রোগীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। প্রবাসীরা নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ফরম পুরণ করে তা আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে র্নিধারিত বুথে জমা দিয়ে সেখানে নমুনা দিতে হয়েছিলো। তবে হঠাৎ বিপত্তি ঘটে। ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর ওসমানী মেডিকেলের করোনা পরীক্ষার মেশিন অর্থাৎ পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) নষ্ট হয়ে যায়। তখন প্রবাসীরা বিক্ষোভ করলে নতুন নির্দেশনা আসে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হয় তাদের পরীক্ষা। প্রচুর সংখ্যক বিদেশযাত্রীর পরীক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খায় শাবির ল্যাব।

এ পর্যায়ে ঢাকার মতো সিলেটেও বেসরকারী উদ্যোগে করোনা পরীক্ষার জন্য বেসরকারী সংস্থা সীমান্তিককে দায়িত্ব দেয়া হয়। সীমান্তিক তাদের নিজস্ব ভবনে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার অনুমতি পায়। কিন্তু অনুমতি প্রাপ্তির পর সীমান্তিক তাদের ভবনে সে কার্যক্রম শুরু না করে পাশেই জেলা পরিষদের অব্যবহৃত একটি ভবনকে বেছে নেয়। গার্ডেন টাওয়ারের পাশে আবুল মাল আব্দুল মুহিত কমপ্লেক্সের গলিপথেই সে ভবনটির অবস্থান। পাশে ছিলো সদ্য নির্মিত আরেকটি বন্ধ টিনশেড মার্কেট। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রায় পরিত্যক্ত ভবন দুটির সাটার খূলে যায়। নোংরা স্থানেই ময়লা আবর্জনার পাশে করা হয় বুথ। পাশাপাশি অনলঅইনে ফরম পুরণের জন্য একাধিক দোকানী ব্যবসা খুলেন বন্ধ থাকা জেলা পরিষদের সেই মার্কেটে। আর সেসব বুথে চলে পরীক্ষা।
এ পর্যায়ে হোঁচট খায় সীমান্তিক। প্রায় ২৯ জন প্রবাসীর করোনার রিপোর্ট ওলট পালট হয়ে যায় সীমান্তিকের ল্যাবে। গত বছর ২১ জানুয়ারী (২০২১) যুক্তরাজ্য থেকে সিলেট আসা ২৯ প্রবাসীর করোনাভাইরাস পরীক্ষায় একদিনের ব্যবধানে দুই রকম ফলাফল আসায় পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তারা সত্যিই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না জানতে এখন তাদের তৃতীয় বার পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্ব পেলে সীমান্তিকের পরীক্ষাগার বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। আবারও কিছুদিন পর সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। সেই একই স্থানে গাদাগাদি করে প্রবাসীদের করোনার মতো স্পর্শকাতর পরীক্ষা চালিয়ে যান তারা।

প্রথম দিকে ৭/৮শ’র মতো নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে সে পরীক্ষার হার বেশ কমেছে। সীমান্তিকের ল্যাবে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনচার্জ বলেন— বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে ৩শ’ নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। প্রতিজনের কাছ থেকে ২৫শ’ টাকা করে ফি নেয়া হচ্ছে। ছাতক থেকে দিলীপ নামে এক প্রবাসী এসেছেন পরীক্ষা করতে। তিনি বললেন— বেসরকারী প্রতিষ্ঠানেও এতো বিশৃংখলা। এখানে আসার পর মনে হয় যুদ্ধ লেগে গেছে। আর পরিবেশটা দেখলেই ভয় লাগে।
এই ল্যাবে পরীক্ষা করিয়েছেন এমন একজন প্রবাসী বাবলু ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন— সামান্য কোনো প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য কোথাও গেলে দেখা যায় ঝকঝকে পরিবেশ। আর এখানকার অবস্থা অন্ধকার বিদঘুটে। চড়ামূল্য দিয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে হয়। তারপরও এতো বিশৃংখলা। খুব ভোরে এসে লাইন ধরতে হয়। তাও অপরচ্ছিন্ন জায়গায়। গাদাগাদি করে বসতে দেয়া হয়। অথচ পাশেই সীমান্তিকের নিজস্ব ভবন রয়েছে। যেখানকার পরিবেশ আরও সুন্দর হতো।

প্রবাসীরা স্বাচ্ছন্দে এসে করোনা পরীক্ষা করাতে পারতেন। কোনো ধরণের জীবানু নাশক কোনো কিছু ছিটানোর বা সেনিটাইজার ব্যবহারও চোখে পড়েনি সরেজমিনে। সরেজমিনকালে সেখানে এসব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাইলে সীমান্তিকের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কাউকেই পাওয়া যায়নি। নমুনা সংগ্রহের কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে একজন বলেন— এসব বিষয়ে কথা বলবেন স্যাররা। আমরা কোনো কিছু বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে জানতে সীমান্তিকের পিসিআর ল্যাবের ইনচার্জ এর মোবাইল নম্বরে একবাধিকবার কল করলেও কেউ রিসিভ করেননি।
সৌজন্যে : দৈনিক জালালাবাদ




