মালয়েশিয়ায় বিদেশী শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন : তদন্তের নির্দেশ
মালয়েশিয়া সংবাদদাতা

মালয়েশিয়ায় ১০ বাংলাদেশি শ্রমিক ত্রিপল টানিয়ে খোলা আকাশের নিচে পানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া মানবেতর জীবনযাপনের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসও তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়— নিয়োগকর্তা কর্তৃক আবাসন ব্যবস্থার অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান এর প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারোয়ার। রোববার দূপুরে এক বার্তায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার।
এর আগে মালয়েশিয়ায় ১০ বাংলাদেশী শ্রমিক অমানবিক পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে, দেশটির সংবাদমাধ্যমে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে করে দেশ বিদেশে কমিউনিটিসহ প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— দেশটির তামান মেলাবতী নামক এলাকায় বাংলাদেশী কিছু শ্রমিক রয়েছেন যারা নির্মাণ খাতে কাজ করেন। তারা গত ৩ মাস ধরে অত্যন্ত মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন। এমনকি সেখানে একটি রাস্তার পাশে ড্রেনের উপর শুধুমাত্র ফাইবারের ত্রিপল টানিয়ে বসবাস করতে হয়েছে। এখানে টয়লেট ও গোসলের জন্য কোন নিরাপদ সু ব্যবস্থা ছিল না। যেখানে আধুনিক মালয়েশিয়ার কোন সুবিধা তারা পাননি। ছিল না বিশুদ্ধ পানি সরবারাহ ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। এসব শ্রমিকদের নিয়োগকর্তাকে বার বার তাদের সমস্যার কথা বলা হলেও বিভিন্ন অজুহাত তুলে কর্ণপাত করেনি। তবে ঐ বাংলাদেশী শ্রমিকদের নাম ও তাদের নিয়োগকর্তার নাম ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
এ ঘটনায় তামান মেলাবতী এলাকার রেসিডেন্ট এসোসিয়েশন এর চেয়ারম্যান আজহারি আবদূল তাহারিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— সরকারের নজরদারির মধ্যেও এই অমানবিক পরিবেশে শ্রমিকদেরকে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা কেমন করে মাসের পর মাস এই অমানবিক পরিবেশে রাখতে পারে? এটা নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা।
অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করার পর তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদের পর নতুন করে রাস্তার পাশে এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে অস্বীকার করলে নিয়োগকর্তা তাদের আশ্বাস দেন যে তাদের জন্য খুব শ্রীঘ্রই নতুন বাড়ি ভাড়া করা হচ্ছে। তারপর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ঐ নিয়োগকর্তা নানা অজুহাতে নতুন বাড়ি ভাড়া করার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। তারা বলেন— বিদেশী অসহায় সাধারণ শ্রমিক বিধায় নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।




