স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে ময়লার ভাগাড় : দুর্ভোগ চরমে
অতিথি সংবাদদাতা

এম এ ওয়াহিদ রুলু, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সীবাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও সড়কের পাশে প্রতদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ফেলে রাখার কারণে বর্জ্য একাকার হয়ে আছে। পরিত্যক্ত জুতা-সেন্ডেল, প্লাস্টিক বোতল, নারিকেলের খোসা, খাবার পরিবেশনের পরে খালি প্যাকেট ফেলা হয়। এ সব বর্জ্যে গিজ গিজ করছে। পানি দেখা যায় না। চোখে পড়ে শুধু বর্জ্য। যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগত রোগী, পথচারী ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধের সঙ্গে সড়টি পারাপার করতে হচ্ছে। এছাড়া সড়কটি ব্যবহার করতে স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়— উপজেলার মধ্যে মুন্সিবাজার একটি অন্যতম বাজার। বাজারে পাশেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে। এখানে সেবা নিতে আশেপাশের তিন ইউনিয়নের মানুষ আসেন। এছাড়া বাজারে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসেন তাদের প্রয়োজনয়ী জিনিস ক্রয় করতে। বর্তমানে সঠিক তদারকির অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে বাজারের সৌন্দর্য।
সরেজমিনে দেখা যায়— মুন্সিবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডাকঘরের পাশে খোলা জায়গায় সড়কের পাশে বাজারের ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বোতল, কার্টুন, কর্কশিট, কাগজ, পলিথিন, বস্তাবন্ধী বাসী খাবার যে-যার মতো করে প্রতিদিন ফেলে যাচ্ছেন। এই আবর্জনার স্তুপের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয় কালীপ্রসাদ উচ্চবিদ্যালয়, মুন্সিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বাজারের চারদিকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কাঁচা বাজার, মাছ বাজারসহ বাজারের ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ থেকে বিকট দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রন্ত হন আশেপাশের লোকেরা।
স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীরা জানান— বছরের পর বছর ময়লার দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ব্যবসা কারা এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদেরও অনেক কষ্ট হয়। এই আবর্জনা বাজারের পাশে রাখার কারনে পুরো বাজার দুর্গন্ধে ভরে যায়। তাঁরা আরও জানান— দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমিতির কাছে দাবি জানানো হচ্ছে বাজারে একটি গণশৌচাগার ও ময়লা ফেলার স্থান করে দেওয়ার জন্য, কিন্তু তা করে দেওয়া হচ্ছে না।
পথচারী মাইদুল ইসলাম ও আব্দুল বাচিত খাঁন বলেন— আমাদের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। রাস্তার পাশের ময়লা-আবর্জনা আর অসহনীয় দুর্গন্ধে কারণে চলাচল করতে কষ্ট হয়।
স্কুল শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন— আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করি। এখানের দুর্গন্ধে আমাদেরকে কষ্ট দেয়। দ্রুত সময়ে বাজারের ময়লা অপসারণ করা হোক এবং সরকারিভাবে নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হোক ময়লা ফেলার জন্য।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মাওলানা মাশহুদ আহমেদ জানান— নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় বাজারের ময়লা এখানে ফেলা হচ্ছে, আমরা মাঝে মধ্যে গিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পরিস্কার করার চেষ্টা করেছি।
এ ব্যাপারে মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাহিদ আহমেদ তরফদার বলেন— আমি উপজেলায় মাসিক সভায় এই বিষয় নিয়ে (টিএইচও) মহোদয়ের সাথে আলোচনা করেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন জানান— ময়লা আবর্জনা অপসারণের ব্যপারে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।




