বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘জমিয়ত’
স্টাফ রিপোর্টার :

শতবর্ষ প্রাচীন ইসলামী রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার (১৪ জুলাই) বেলা দেড়টায় রাজধানী ঢাকার পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলটির এক বিশেষ পরামর্শ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করেন- দলের সহ-সভাপতি আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা আবদুর বাছির, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, সহকারী মহাসচিব মুফতি মাসুদুল করীম, অর্থ সম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা বশীর আহমদ, মুফতি নাসির উদ্দিন খান, দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাজহারী, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আবদুল গাফফার ছয়ঘরী, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা নূর মুহাম্মদ, যুব জমিয়তের ঢাকা মহানগর সভাপতি সাইফ উদ্দীন ইউসুফ ফাহিম প্রমুখ।
পরামর্শ সভা শেষে দলটির পক্ষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রে বলা হয়— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রাজনৈতিক দল। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় কৃষ্টি-কালচার ও স্বকীয়তা সংরক্ষণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সোনালী ইতিহাস রয়েছে। দেশ ও জাতির যে কোন ক্রান্তিকালে জমিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা’সহ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর নেজাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জমিয়ত নিয়োজিত। এ ধারাবাহিকতায় বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আজকের পরামর্শ সভায় ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনান্তে সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নোক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এক. বিশেষ এক পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলারদেশ বিএনপি’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। এ ধারাবাহিকতায় ঐক্যবদ্ধভাবে কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, জোটের শরীক দলের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সম্প্রতি শরীক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করে মতামত না নিয়ে তিনটি আসনের উপ-নির্বাচন এককভাবে বর্জনের ঘোষণা করা, বিএনপি মহাসচিবের ‘শরীয়া আইনে বিশ্বাসী না হওয়া’র বক্তব্য দেয়া, দেশব্যাপী আলেম-উলামাদের জেল-জুলুমের প্রতিবাদে কার্যকর কোন ভূমিকা না থাকায় এবং জোটের শীর্ষ নেতা জমিয়ত মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রাহ. এর ইন্তিকালের পর বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন না করা এবং জানাযায় অংশগ্রহণ না করায় জমিয়তের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাই জমিয়ত মনে করে— ২০ দলীয় জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করাই জমিয়তের জন্য কল্যাণকর। তাই আজ থেকে জমিয়ত জোটের কোন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকবে না।
দুই. সম্প্রতি মোদি আগমনবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেফতারকৃত জমিয়ত নেতৃবৃন্দ’সহ সকল উলামায়ে কেরাম ও নেতৃবৃন্দের অবিলম্বে মুক্তির জোর দাবী জানাচ্ছে।
তিন. জমিয়ত নেতৃবৃন্দ’সহ উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে, সে সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং হয়রানী বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছে।
চার. প্রাণঘাতি করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কাঠোর লকডাউন, শাটডাউন ঘোষণা করায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ এবং সকল নাগরিককে দ্রুত সময়ের ভিতর টিকাদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী করছে।
পাঁচ. দীর্ঘ দিন যাবৎ মাদরাসা’সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে এবং ক্ষেত্র বিশেষ বহু কোমলমতি কিশোর সামাজিক নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাই আজকের সভা কওমী মাদরাসা’সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবিলম্বে খোলে দেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছে।
ছয়. বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম একটি খাত হলো চামড়া শিল্প। এই চামড়ার বিশাল একটা অংশ পবিত্র ঈদুল আযহায় জবেহকৃত পশু থেকে সংগৃহীত হয়ে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরে রহস্যজনকভাবে চামড়ার দরপতন পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে চামড়া শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তাই চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে চামড়া শিল্পকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জোর দাবী জানাচ্ছে।




