আজ ঈদুল আযহা: ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার দিন
স্টাফ রিপোর্টার :

আজ ১০ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী, রোজ বুধবার, মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানী’সহ দেশজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আযহা উদযাপন করবে। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আযহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করবেন। তবে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস।
পবিত্র ঈদুল আযহা; মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের দিন। মুসলিম জীবনে ঈদুল ফিতরের ন্যায় আরেকটি মহা খুশির দিন। এদিন ধনী-গরীব, রাজা-প্রজা সকলেই ঈদগাহে সমবেত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দু’রাকাত নামায আদায় করবে। আর সামর্থ্যবান মুমিন বান্দারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের জন্য তাদের কুরবানীর পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করবে। এরপর তাঁর মেহমানদারী গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করবে।
বছর ঘুরে আবারো উপস্থিত এ মহিমান্বিত দিবস। মধ্যপ্রাচ্য’সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ গতকাল উদযাপন করেছে। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজধানী’সহ সারা বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় আজ ঈদুল আযহা উদযাপন করবে। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আযহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুয়ায়ি পশু কোরবানি করবেন। নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকেই যাবেন কবরস্থানে। তারা চিরবিদায় নেওয়া তাদের স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে এই আনন্দের দিনে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাবেন।
আজ কোরবানির দিন। কোরবানী বিশ্ব ইতিহাসে এক নজিরবিহীন আত্মত্যাগের ঘটনা। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম আ. এর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল আ. আল্লাহর রাহে কুরবানীর স্মৃতিচারণে মুসলিম উম্মাহ শতাব্দীর পর শতাব্দী কুরবানীর মহান ব্রত পালন করে আসছে। বিশ্বমুসলিম ত্যাগের নিদর্শন স্বরূপ আল্লাহর হুকুম মোতাবেক, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু জবেহের মাধ্যমে কুরবানীর যে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে, তা মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম আ. এর সুন্নাত। তিনি প্রিয় পুত্র ইসমাঈল আ. কে মহান আল্লাহর হুকুমে কুরবানি দেয়ার উদ্দেশ্য সাধন করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা মুহাম্মাদী উম্মতের জন্য পালনীয় বিধানে পরিণত করা হয়েছে।
কোরবানি হলো, ত্যাগ, তিতিক্ষা ও প্রিয়বস্তু আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা। যা ইবরাহীম আ. করে দেখিয়েছেন। কেবল গোশত খাওয়ার নাম কোরবানি নয়। আল্লাহর রাহে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়া, তাকওয়া হাসিলের লক্ষ্যে পশুর গলায় নয় বরং সকল প্রবৃত্তির গলায় ছুরি চালিয়ে আল্লাহর প্রেমে পাগলপরা হওয়া হলো কোরবানির তাৎপর্য।
সংকট-দুর্যোগের মধ্যদিয়ে ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে সমাগত। বিগত এক শতকে দেশে এমন পরিস্থিতিতে ঈদ উদযাপন হবার কোন নজির নেই। একদিকে করোনা সংকটে দিশেহারা মানুষ। বিপর্যন্ত জনজীবন। অর্থনীতির চাকা মন্থর।
এবারের ঈদুল আযহায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ, ঈদুল আযহা আমাদেরকে ত্যাগ ও কোরবানির আদর্শে উজ্জীবিত করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে সবকিছু বিলীন করে দেয়ার চেতনা জাগ্রত করে ঈদুল আযহা।
ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলের সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেছেন।
করোনা মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে এই ঈদেও সরকারের নির্দেশনায় খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ঈদ জামাত হবে এলাকার মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে। কোলাকুলি এবং হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এবার ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টেলিভিশন, গণমাধ্যমগুলো যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধনিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
কোরবানি দেওয়া পশুর রক্ত বা বর্জ্যের কারণে যাতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয়, সে বিষয়ে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশের সবক’টি সিটি করপোরেশন’সহ সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ওয়াজিব করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় আজ দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। তবে এবার করোনা ও বন্যার মতো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ভিন্ন পরিবেশে কোরবানির ঈদ হওয়ায় অন্যান্য বারের চেয়ে পশু কোরবানি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দুঃস্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেওয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে।




