সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের অবস্থাও ভালো নয়
স্টাফ রিপোর্টার

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার ফুসফুসের অবস্থা ভালো নয়। মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্টও হচ্ছে।
সোমবার (২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মুহিতের ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন- ‘ওনার সমস্যা আছে, একটু অসুবিধা হয়। অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর লাগানো আছে। সিটিস্ক্যানেও সমস্যা ধরা পড়েছে। এরা ২৫ পার্সেন্টের বেশি হলে মনে করে সিভিয়ার। ওনার তার চেয়ে অনেক বেশি। শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। উনি অনেক পাতলা হয়ে গেছেন। প্রায়ই কিছু খান না, কালও খাননি। এতে উনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে কাল ভালো ঘুম হয়েছে, আগের দিনে তিনি ঘুমাননি।’
২৭ জুলাই সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর করোনা শনাক্ত হয়। বৃহস্পতিবার ৮৭ বছর বয়সী মুহিতকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করান স্বজনরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- ‘উনি (মুহিত) ভালো আছেন। উনি ঈদের সময় কোরবানি দিয়েছেন। উনি সেখানে ছিলেন। সবার সঙ্গে ওঠাবসা করেছেন। সবার সঙ্গে মিশেছেন। ওনার বাসার ওখানে গ্যারেজের কাছে একটি খাবার জায়গা আছে। সবাই আসলে সেখানে বসে চা-নাশতা খান, সেখানে সবাই আসে। উনি সবার সঙ্গে মিশেছেন, কথা বলেছেন।
‘যাই হোক, ওনার কোভিড হয়। কেবল উনি নয়, পরিবারের সবারই কোভিড পজেটিভ হয়। উনি খুব অসুবিধায় ছিলেন। যেহেতু বাসায় তার দেখাশোনার সমস্যা ছিল। বাসায় যে দুটি মেয়ে কাজ করে তারাও কোভিড পজিটিভ। ওনার ছেলেও কোভিড পজিটিভ, ওনার ওয়াইফও পজিটিভ। আমরা বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীকে জানালাম। হসপিটালে গেলে ওনার ট্রিটমেন্টটা হবে, বাসায় অনেক সমস্যা। ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সমস্যা। তাই হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- ‘উনি এখন সিএমএইচের চিকিৎসায় আছেন। খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তিনি সব বিষয়ে খুব অ্যালার্ট। সব খোঁজখবর রাখছেন। আমি বললাম- আগামী সপ্তাহ থেকে প্রতি সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দেব।’
এ কে মোমেন বলেন- এটা শুনে উনি বললেন- ইটস অ্যা গুড প্রোগ্রাম। কিন্তু পারবে কি? তোমার ভ্যাকসিন আছে ? আমি বললাম- ভ্যাকসিন আছে, লোকবলও আছে। আগামী দুই মাসে দেশের আট কোটি লোককে ভ্যাকসিন দিতে চাই।
উনি বললেন- ভালো কথা, এখানে সব আছে কিন্ত বই ও পত্রিকা নেই। হাসপাতালওয়ালারা পত্রিকা দেয় না।
এ কে মোমেন বলেন- আমরা ব্যবস্থা করেছি পত্রিকা কিনে দিতে। উনি আমাকে বললেন- বই নেই। আমি বললাম- বই দেয়া হবে। আমি চারটা বই দিয়ে এসেছি। আরও দেব।
মোমেন বলেন- হাসপাতালে ওনাকে বেশির ভাগ সময়ই ঘুমিয়ে রাখা হয়। ওনার বয়স ৮৭। বয়স অনেক। এখনও উনি নেগেটিভ হননি। কেবল সাত দিন। উনি ডাবল ডোজ টিকা নিয়েছেন। এটাই আমাদের আশার কথা। আপনারা ওনার জন্য দোয়া করেন। উনি আমাদের অ্যাসেট। আল্লাহ যেন ওনাকে রক্ষা করেন।




