পাকিস্তানী তালেবান নিয়ে যা বললেন জবিহুল্লাহ মুজাহিদ
আন্তর্জাতিক সময়

আফগান তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন- তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সংকটের সুরাহা করার দায়িত্ব আফগানিস্তানের না। অবশ্যই পাকিস্তান সরকারকে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
শনিবার (২৮ আগস্ট) একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে- তালেবান কী টিটিপিকে বলবে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে না জড়াতে।
জবাবে জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন- টিটিপির লড়াই বৈধ কিনা; কিংবা জবাবে তারা কোনো কৌশলের সূত্র নির্ধারণ করবেন কিনা; এটি পাকিস্তান ও পাকিস্তানি আলেমদের ওপর নির্ভর করছে। এটি তালেবানের কোনো ইস্যু না।-খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের
ভবিষ্যত আফগান সরকার এ বিষয়ে কিছু বলার অধিকার রাখেন বলে জোর দেন এই তালেবান নেতা। তিনি বলেন- আমাদের অবস্থান হচ্ছে, অন্য দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে আফগান মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যদি টিটিপি মনে করে, তালেবান তাদের নেতা, তবে অবশ্যই এই নির্দেশনা তারা অনুসরণ করবেন।
এর আগে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আফগানিস্তানের আসন্ন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
গেল ২০ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী বলেন- আগের আফগান সরকারের আমলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে টিটিপি আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাতে টিটিপিকে যাতে কোনো সুযোগ না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে কাবুলের নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।
অস্ট্রেলিয়ায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন জাহিদ হাফিজ চৌধুরী। টিটিপি নেতা মৌলভী ফকির মোহাম্মদসহ বহু কারাবন্দিকে ছড়ে দিয়েছে আফগান তালেবান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পড়েছি। আমরা পাকিস্তানের মধ্যে সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত যে কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিরোধিতা করে যাব।
তিনি বলেন- পাকিস্তানে যখন নতুন সরকার গঠিত হবে, তখন এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত ক্রোসিংগুলো বর্তমানে ভ্রমণ ও বাণিজ্যের জন্য খোলা থাকবে।
তবে আফগান তালেবানের সরকারকে পাকিস্তান স্বীকৃতি দেবে কিনা; জানতে চাইলে তিনি কূটনৈতিকভাবে তার জবাবে বলেন- আফগানিস্তানে স্থায়ী শান্তির জন্য রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য। একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সমাধানে আফগানিস্তানের সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্ত করতে ঐকমত্যের প্রয়োজন আছে জানিয়ে তিনি বলেন- এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। এভাবে বড় ধরনের সহিংসতা এড়িয়ে যাওয়া যাবে।




