পড়ে আছে আপিল, শুনানির উদ্যোগ নেই খালেদার আইনজীবীদের
সময় সংগ্রহ
খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই আপিল শুনানি করতে আগ্রহ নেই তার আইনজীবীদের। তাই তিন বছর ধরে আদালতে পড়ে আছে তার আপিল।
বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে গিয়ে লাভ হবে না। অ্যার্টনি জেনারেল ও দুদক আইজীবী বলছেন- খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা উদ্যোগ না নিলে আইনগতভাবে তাদের কিছুই করার নেই।
স্থায়ী মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করলেও ৩ বছর ধরে আদালতে বাইরে আছেন খালেদা জিয়া। এমনকি জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাস চেয়ে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিএনপি নেত্রীর আবেদন পড়ে আছে তিন বছর ধরে। বরং এসব আপিল শুনানির উদ্যোগের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন তার আইনজীবীরা।
মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সবশেষ আবেদনের বিষয়ে সরকারও জানিয়েছে স্থায়ী মুক্তির জন্য যেতে হবে আদালতে। এখন কী করবেন আইনজীবীরা? জানান- আইনগতভাবে তাদের আর কিছু করার নেই। কেননা অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন জানান, একের পর এক চেষ্টা করেছি, মাসের পর মাস হাইকোর্ট, আপিল বিভাগে গিয়েছি, পিজি হাসপাতাল থেকে সার্টিফিকেট এনে দেখানো হয়েছে তারপরও কোনো কাজ হচ্ছে না। বিচার ব্যবস্থা আমাদের আকুতিমিনতি দেখেছেন, বিচার ব্যবস্থা আজকে কী অবস্থার মধ্যে আছে।
দুদক আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন- আদালত ছাড়া কোনো দিনই স্থায়ী মুক্তি মিলবে না খালেদা জিয়ার। বলেন- তার একটা আপিল হাইকোর্টে পড়ে আছে। আর দুটো লিভ টু আপিল, এটা আপিল না। শুধু লিভ টু আপিল দাখিল করে রাখা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদি বাদীপক্ষ শুনানির উদ্যোগ না নেয় তাহলে আমাদের পক্ষে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে এটা বাদীপক্ষকে নিতে হবে।
আর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান- খালাসের আবেদন শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
তিনি বলেন- হাইকোর্ট বিভাগে তাদের মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালত তাদের ট্রায়াল কোর্টে শাস্তিটি বহাল রেখেছেন একটা ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করেছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের শুনানি করার জন্য দরখাস্ত করতে হবে তারিখ নির্ধারণের জন্য। তাদেরই যেতে হবে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় বেগম জিয়ার। এর মধ্যে ২ বছর ১ মাস ১৭ দিন জেল খেটেছেন তিনি। গত বছরের ২৫ শে মার্চ পরিবারের আবেদন সাময়িক মুক্তি পান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। চার দফায় তার মুক্তির মেয়াদ ২ বছর বাড়ে।





