২০৪১ সালের সৈনিক হয়ে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
স্টাফ রিপোর্টার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সব সময় এটা মাথায় রাখতে হবে এই দেশ, মাটি, মানুষ আমাদের। তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা, একটা সুন্দর জীবন দেওয়া- এটাই লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যটা পূরণে আসলে মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে এই মাঠ প্রশাসন। কাজেই আপনারা দায়িত্ব সেইভাবে পালন করবেন।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুসারে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য। সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করে জনগণের সেবক হয়েই কাজ করতে হবে।
বুধবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ১১৯ ও ১২০তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যেতে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর ন্যায়বিচার পেতে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেই স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশনা দেন কর্মকর্তাদের। তিনি বলেন, মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়, প্রশাসনের সেবা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রশাসনের সবাই টিকাদান কর্মসূচিতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন এবং টিকা দিয়ে যাচ্ছেন। এই করোনাকালীন মানুষের সেবা করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন। এত সুন্দরভাবে টিকাদান কর্মসূচি চলছে, এ জন্য টিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে টিকা নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে, সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এমনও হয়েছে একজন একডোজ পেয়েছে, হয়তো ছয় মাস হয়ে গেছে দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবেই করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের কোনও মানুষই করোনা টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। সবাই যাতে টিকা পায় সেই ব্যবস্থাটা আমরা করব।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি সদ্য স্বাধীন হওয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেন। কিন্তু এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছেন, হত্যা ক্যু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, সেই সব সামরিক শাসকরা আর যাই হোক ক্ষমতায় গিয়ে জৌলুস দেখাতে পারে, বিলাসিতা দেখাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা, রাষ্ট্রের কী চাহিদা, মানুষ কী চায়, সেই বোধ তাদের ভিতরে থাকে না।
তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কেমন বাংলাদেশ হবে, তার ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। ’৪১ সালের সৈনিক হয়ে কাজ করতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে দক্ষ প্রশাসন। একটি আদর্শ নিয়ে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে। উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে, প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।




