পাগলী মা-র খুঁজে: শাহ মমশাদ আহমদ
আখতার হুসাইন

শাহ মমশাদ আহমদ ; শীত কালের দীর্ঘরাত, ফজর-এর নামাজ আদায় করার পূর্বেই প্রাতঃভ্রমণ শেষ করে থাকি। নগরীর রেজিষ্টারী মাঠে-র প্রবেশ মুখে দেখলাম নিজেদের রিক্সাকে দেয়াল বানিয়ে তিনজন রিক্সা চালক ভাই ঘুমিয়ে আছেন, যথেষ্ট শীত পড়েছে কিন্তু কারো গায়ে একটি চাদর ও নেই।
কীন-ব্রীজের নীচেও দেখলাম অনেকেই গভীর ঘুমে,কারো-ই শীতের কাপড় নেই। কেউ কেউ আবার পলিথিন গায়ে জড়িয়ে আছেন।
সুরমা নদীর পাড়ে আমার দীর্ঘ দিনের পরিচিত “পাগলী মা” কে পেলাম, কোথাও দেখা হলে আমাকে ‘হুজুর’ বলে ডাকেন। পথ কলিরা তাকে “পাগলী মা” ডাকে। মুখে পান ছিল, দাঁত বের করে হাসছিলেন। জিজ্ঞাসা করলাম ‘মা’ এত সকালে পান খাচ্ছেন কেন? দু-দিন যাবত ভুখা, পেটে ক্ষুধা, পান চিবালে শান্তি পাই। এই বলে তিনি হাসি মুখে উত্তর দিলেন, বয়স অন্তত সত্তর হবে।
“পাগলী মা”কে টাকা দেয়া নিরাপদ নয়। টাকা ছিড়ে ফেলেন, খাবার দিতে হয়। কোর্ট মসজিদে নামাজ পড়ে সুরমা মার্কেটে একটি রেষ্টুরেন্টে দেখলাম পরটা বানাচ্ছে। পরটা, ডাল, ভাজি, ডিম কিনলাম। কিন্তু “পাগলী মা”কে পেলাম না। মনে খুব কষ্ট লাগলো, পাগলীটা এমনই, কোথাও স্থির থাকেনা।
আমার চোখে এখনো ভাসছে পাগলী মা-র হাসি। এ হাসি কি বিদ্রুপের হাসি ছিল? তিনি কি আমাকে বলছিলেন? উদোর পুর্তি করে শান্তির ঘুম শেষে পেটে ক্ষুধা লাগার জন্য তোমারা হাটাহাটি করো, আর আমরা পেটের জ্বালায় ঘুমাতে পারিনা ক্ষুধা মিটাতে পান চিবাই।
মনে অশান্তি বিরাজ করছে, হায়! হাতে যদি কিছু শুকনো খাবার থাকত। কয়েকটি কম্বল থাকত। নিজ হাতে পাগলী মা’কে খেয়ে দিতে পারতাম? শীতে কাতর ঘুমিয়ে পড়া মানুষ-এর গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিতে পারতাম?
স্থান কাল পাত্রভেদে কিছু ক্ষুদ্র দান-খায়রাত হয়ে যায় বিশাল দানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কনকনে শীতে কাবু মানুষটি হঠাৎ আপনার দেওয়া দু-শত টাকার একটি কম্বলের উত্তাপ পেয়ে মন থেকে যে দোয়া দিবে তা আনুষ্ঠানিক কোটি টাকার শীত বস্ত্রবিতরণ করার চেয়ে কল্যাণকর হবে ইনশাআল্লাহ।
আসুন-কনকনে শীতে-র সময়ে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলোর পাশে দাড়াবার চেষ্টা করি।
আল্লাহ তাওফিক দিন।




