বেহাত হচ্ছে বায়তুল মোকাররমের রাস্তা : নির্মাণ হচ্ছে পার্ক।
স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তা বেহাত হতে চলেছে। তেত্রিশ বছর পর হঠাৎ রাস্তার মালিকানা দাবি করে মসজিদের পূর্ব দিকের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বলা নেই কওয়া নেই রাস্তার ওপর পার্ক ও ড্রেন নির্মাণ কাজও শুরু করে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে মসজিদের পূর্ব দিক থেকে আগত হাজার হাজার মুসল্লি। সর্বসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি দ্রæত খুলে দেয়ার পরিবর্তে এর মালিকানা নিয়ে রশি টানাটানি শুরু হয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাঝে। এ নিয়ে জাতীয় মসজিদের মুসল্লিদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বায়তুল মোকাররম শুধু বাংলাদেশেরই ঐতিহ্য নয়; এটি মুসলিম উম্মাহ’র একটি প্রতীক। মসজিদটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং মিনার ও সাহান নির্মাণের জন্য ইতোপূর্বে রাজকীয় সউদী সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সউদীর অর্থায়নে নির্মিত দক্ষিণ পার্শ্বের মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্ত পূর্ব পার্শ্বের প্রস্তাবিত মিনার নির্মাণ কার্যক্রম অদ্যাবধি শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম এইচ এম এরশাদ ১৯৮৮ সালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্বদিক থেকে আগত মুসল্লি এবং বিদেশি মেহমানদের মসজিদে যাতায়াতের সুবিধার্থে মসজিদের পূর্বদিকে একটি সংযোগ রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দেন। জাতীয় মসজিদের পূর্ব গেট থেকে রাজউকের রাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ সংযোগ সড়কটি ১৯৮৯ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিকট তা বুঝিয়ে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। ২০০৪ সালে এনএসি টাওয়ার নির্মানের সময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ রাস্তাটির ওপর মালামাল রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিকট লিখিত অনুমতি চায়। টাওয়ার নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তা খুলে দিতে গড়িমসি করতে থাকে। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন মহাপরিচালক মো. ফজলুর রহমান এক চিঠিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তাটি শবেবরাতের পূর্বেই উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেও কোনো সাড়া পাননি।




