বিশ্বনাথের দুই ইউপিতে বিএনপির দুর্গ ভাঙতে চায় আওয়ামী লীগ
বিশেষ সংবাদদাতা

বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি, খাজাঞ্চি ও অলংকারি ইউনিয়ন। আগামী ৩১ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ ধাপে লামাকাজি ও খাজাঞ্চি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন। ইতিমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে প্রতীক। ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে এই দুই ইউনিয়ন।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি সদস্য/সদস্যা প্রার্থীরাও ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। শুরু করেছেন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ। চাইছেন ভোট। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। চলছে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচারণা। পোস্টারে পোস্টারে ভরে গেছে পুরো দুই ইউনিয়ন।
বিশ্বনাথের লামাকাজি ও খাজাঞ্চি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ স্থানীয়ভাবে অনেকটাই নির্ভার হলেও এবার নৌকা প্রতীক বিজয়ী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ দুই ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ স্থানীয়ভাবে অনেকটাই নির্ভার হলেও এবার নৌকা প্রতীক বিজয়ী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
জানা গেছে- দুই ইউনিয়নেই বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। বিএনপির ভোটের দূর্গ ভাঙ্গতে দুই ইউনিয়নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিয়েছে। মনোনয়নের আগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরব থাকলেও জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের কড়া নির্দেশনায় কেউই অবশেষে প্রার্থীতা দেওয়ার সাহস পাননি।
দলীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচনে না থাকলেও স্বতন্ত্রের ব্যানারে দুই ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে ভোটের ভাগাভাগির সুযোগটাই নিতে চায় নৌকার প্রার্থীরা। তাইতো জেলা ও উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মিরা নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে কোমর বেধেঁ মাঠে নেমেছেন।
দলীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচনে না থাকলেও স্বতন্ত্রের ব্যানারে দুই ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে ভোটের ভাগাভাগির সুযোগটাই নিতে চায় নৌকার প্রার্থীরা। তাইতো জেলা ও উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে কোমর বেধেঁ মাঠে নেমেছেন। যেকোন ভাবেই দুই ইউনিয়নে নৌকার বিজয় চায় আওয়ামী লীগ।
২নং খাজাঞ্চি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৫১৭। চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। এরা হলেন- প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আরশ আলী গণি (নৌকা), জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন (আনারস), ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কয়েছ মিয়া (ঘোড়া), ইসলামী আন্দেলনের প্রার্থী আবদুল বাছিত (হাতপাখা)। তবে ভোটাররা বলছেন- এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর মধ্যেই নৌকা, আনারস ও ঘোড়া প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমূখী লড়াই হবে।
১নং লামাকাজি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৯০৫। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। তারা হলেন- ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফয়ছল আহমদ (নৌকা), বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া (চশমা), ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া তালুকদার (আনারস), ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবেদুর রহমান আছকির (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের নেতা আতাউর রহমান (হাতপাখা)। এই ইউনিয়নেও নৌকা, চশমা ও আনারসের মধ্যে ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
এ বিষয়ে খাজাঞ্চি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মকদ্দছ আলী বলেন- খাজাঞ্চি ইউনিয়নে বিগত ৫বছর কোন রকমের উন্নয়ন কাজ হয়নি। খাজাঞ্চি ইউনিয়ন উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। ভোটাররা এবার উন্নয়নের পক্ষে উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিবেন। তাই নির্বাচনে নৌকা জয়ী হওয়ার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমির আলী বলেন- লামাকাজি ইউনিয়নে তরুণ প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ডিজিটাল এই সময়ে চারদিকে তরুণদের জয়জয়কার। এই ইউনিয়নে জনগণ চায় উন্নয়ন, তাই জনগণ আমাদের পক্ষে আছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রতীক নৌকার পক্ষেই থাকবে।




