ইরানের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক সময়

ইরানের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিতে ফিরে যেতে একে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপির
২০১৫ সালে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। চুক্তি মোতাবেক ইরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়। শর্ত মেনে চলার বদলে সে সময় ইরানের ওপর আরোপ করা বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
পরে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউস জো বাইডেনের দখলে আসার পর থেকেই পুরোনো ওই চুক্তিতে ফেরার কথা বলে আসছেন তিনি। এ লক্ষ্যে বিশ্ব শক্তিগুলো অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
চুক্তিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরা ও ইরান যাতে চুক্তিতে থাকার শর্ত মেনে চলে, তার লক্ষ্যেই ভিয়েনায় তেহরান-ওয়াশিংটন পরোক্ষভাবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
এদিকে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে দেশটির বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পে অংশ নিতে পারবে বাইরের দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার কোনো বাধ্যবাধকতাও থাকবে না।
২০১৫ সালের চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসার পর থেকেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছিল ইরান। সমৃদ্ধ ওই ইউরেনিয়ামও দেশটির পরমাণু প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে ভিয়েনা আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এখন প্রতিটি পক্ষকে ‘জটিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ অপর দিকে শুক্রবার পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জেরে যে কৌশলগত আলোচনা শুরু হয়েছে, জেসিপিওএ বৈঠকের শেষ সপ্তাহগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন- যদি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না–ও হয়, তারপরও বিশ্বের স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে আলোচনা চালিয়ে যেতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের গুরুত্ব রয়েছে।




