সিলেটে আরেক দফা বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম: উর্ধ্বমূখী রসুনের পিছু আলুও
সময় সিলেট ডেস্ক

দ্রব্যমূল্যের ঘোড়া ছুটছেই। নিত্যপণ্যের দফায় দফায় দামবৃদ্ধি যেন নিত্যকার ঘটনা। কখন হঠাৎ কোন পণ্যের দাম বাড়বে, বাজার সঙ্কট দেখা দিবে এ নিয়ে শঙ্কায় জনসাধারণ। চালের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলছে অভিযান। প্রতিদিন টনে টনে চাল উদ্ধার হলেও বাজারে এর কোন প্রভাব পড়েনি। কমেনি চালের দাম, বরং কিছু চালের দাম স্থিতিশীল, বাড়ছেও কিছু। এরমধ্যে চলতি সপ্তাহে আরেক দফায় বেড়েছে রসুন ও আলুর দাম।
বাজারে রসুনের দাম ইতোমধ্যে ডাবল সেঞ্চুরী ছাড়িয়ে গেছে। রসুনের পিছু পিছু উর্ধ্বগতিতে রয়েছে আলু’র দাম। বাজারে গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া আলুর কেজি এখন ২৫-৩০ টাকা। আলুর দাম আরো বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন দোকানদাররা। এই সুযোগে বাজারে রসুন ও আলুর কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির আশঙ্কা সাধারণ মানুষের।
শনিবার সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে— দেশব্যাপী চালের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান সত্ত্বেও, বাড়ছে চলছে চালের দাম। বাজারে মিনিকেট চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৭ থেকে ৬৮ টাকা। একসপ্তাহ আগে মিনিকেটের কেজি ছিল ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা। ২৮ চালের কেজি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়। আগে দাম ছিল ৫০ টাকা কেজি। নাজিরশাইল চালের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারে পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।
বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকা কেজি। বাজারে চায়না রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে পাড়ার মুদি দোকানগুলোতে আমদানী করা চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। মাঝারী সাইজের রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। আর দেশী রসুন ১০০ টাকা।
এদিকে বাজারে বার্মিজ আদার কেজি ৬০-৭০ টাকা। চায়না আদার দাম ৯০-১০০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। বাজারে দেশি মুশুরের ডালের কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ইন্ডিয়ান মুশুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। প্যাকেট আটার কেজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০। খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
জানা গেছে— চাল-ডাল-তেল, টুথপেস্ট সবকিছুতে বাড়তি দামের খড়গ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে দেশজুড়ে চলছে অস্থিরতা। কোথাও নেই এতটুকুও স্বস্তি। নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত। কারওই হিসাব মিলছে না আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের। প্রায় প্রত্যেকেই বলছেন-আয় বাড়ছে না, ব্যয় সামলাবো কীভাবে?
এমন একজন হচ্ছেন রফিক আহমদ। চাকরি করেন একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে। বেতনের টাকায় সংসার চালাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। শনিবার নগরীর সুবিদবাজারের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটতে দেখা গেছে তাকে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত হয়ে তিনি বলেন— বাজারে সমস্ত পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। আমরা চাকরি করি। বেতন তো এক টাকাও বাড়েনি। চাকরিজীবীদের জন্য আসলেই খুব কষ্টের ব্যাপার। যারা ব্যবসায়ী তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু যারা কিনছে তাদের আয়ের বাড়তি উৎস নেই। এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের। বেতনের অর্ধেক চলে যায় বাসা ভাড়ায়। বাকি টাকায় সংসার খরচ ও সন্তানদের শিক্ষার পেছনে ব্যয় হচ্ছে। মাস শেষে পকেটে কোনো টাকা থাকে না।
শুধু রফিকই নন। এমন পরিস্থিতির শিকার এই সমাজেরই অধিকাংশ মানুষ। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়— প্রতিদিনই বাড়ছে কোন না কোন নিত্যপণ্যের দাম। বিশ্ববাজারে দাম কমেছে, এছাড়া সিলেটের বাজারেও সরবরাহ বেড়েছে সয়াবিন তেলের। তবুও দাম কমার লক্ষণ নেই তেলের। পাশাপাশি পেঁয়াজ, ডিম কিনতেও বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
তেল, রসুন, পেঁয়াজ, ডিমের দাম বাড়লেও কিছু সবজির দাম কমেছে। অবশ্য কিছু সবজি দাম বাড়ার তালিকায়ও আছে। আর রোজায় সিলেটে ৬৫০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা গরুর গোশত এখনো ঐ দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা দাম কমেছে ব্রয়লার মুরগির। ঈদের সময় ২০০ টাকা কেজির পাশাপাশি থাকা ব্রয়লার মুরগী এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকা কেজি।
সিলেট নগরীর বিভিন্ন মাছ বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে আলাপাকালে জানা যায়— বাজারে পাঙ্গাশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। পাবদা মাছ ৫০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। শিং মাছ ৩০০ টাকা, দেশী মাগুর ৫০০ টাকা, শোল-গজার মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ টাকা, কই ২৫০ টাকা, টাকি মাছ ৪০০ টাকা।
মুরগির দোকানে গিয়ে দেখা যায়— সোনালী মুরগি ৩০০ টাকা কেজিতে, কক ২৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়। বাজারে লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৯০ টাকা।
কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়— গাজর, টমেটো ও বেগুনের দাম চড়া। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৬০-৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে কেজি প্রতি ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, শসা ৬০-৭০ টাকা। বৃষ্টি থাকায় সিলেটের বাজারে সব জাতের লেবুর দাম কিছুটা কমলেও বাজারে কাচা মরিচের কেজি এখন ১৫০ টাকা।
আম্বরখানা বাজারের সবজি বিক্রেতা রশিদ বলেন— দেশে গাজর, বেগুন, লেবু ও কাচা মরিচ ছাড়া সব সবজির দাম কিছুটা কম আছে। বাজারে এখন গাজর নাই। যা আছে সব চায়না গাজর। টমেটোর একই দশা। দেশি কোনো টমেটো নাই, যে কারণে দাম বেশি।
বন্দরবাজারে চাল কিনতে আসা আব্দুর রহিম বলেন— অন্য সব বাজার করে এসে এখন যা অবস্থা তাতে চাল কেনায় টান পড়েছে পকেটে। মাছ-মাংস তো সামর্থ্যরে বাইরে চলে গেছে। সবজি খাব, সেখানেও বাড়তি দাম। ইলিশ আর বাঙালির মাছ নেই। দেশি মাছ কিনব সেখানেও ৪০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। এসব দেখার যেন কেউ নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই বেঁচে থাকার তাগিদে বাজার করা।




