সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি: ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ অলিউরের পরিবার
কুলাউড়া সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার অলিউর রহমানের বাড়িতে মাতম চলছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম তরুণ ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা। তার এই মৃত্যু কিছুতে মেনে নিতে পারছেন না ছোট ভাই-বোন’সহ গ্রামের লোকজন।
সোমবার (৬ জুন) সকালে অলিউরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়— অলিউরের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা। পরিবারের কর্মক্ষম বড় ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তারা। স্বজনদের আহাজারিতেও আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
অলিউর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলী গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে। পরিবারের ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে অলিউর বড়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে প্রায় ৪ মাস আগে একই গ্রামের বাসিন্দা ঠিকাদার মামুন মিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোতে শ্রমিকের কাজে যোগ দেন তিনি।
জানা গেছে— শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনার ডিপোতে হঠাৎ আগুনের ঘটনা ঘটে। এ সময় ফেসবুকে লাইভে থেকে সবাইকে আগুনের খবর দিচ্ছিল অলিউর। হঠাৎ অনেক শব্দে বিস্ফোরণ হলে হাতের মোবাইল ছিটকে যায় অলিউরের। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
রবিবার দুপুরে স্বজনরা জানতে পারেন চট্টগ্রাম মেডিকেলে তার মরদেহ রয়েছে। খবর পেয়ে অলিউরের বাবাসহ নিকটাত্মীয়রা তার মরদেহ আনতে চট্টগ্রাম ছুটে যান।
সোমবার সকালে অলিউরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তাকে এক নজর দেখার জন্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার শত শত নারী-পুরুষ ভিড় করেন। পরে বেলা ২টায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অলিউরের বাবা আশিক মিয়া কেঁদে কেঁদে বলেন— ছেলেটা সর্বশেষ ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়িতে আসে। কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরে যায়। অগ্নিকাণ্ডের দুই ঘণ্টা আগে ছেলে ফোন করে জানায়— ছোট বোনের পড়ার খরচ হিসাবে এক হাজার টাকা পাঠালাম। কে জানতো আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে?
এলাকাবাসী জানান— ছেলেটা খুব নম্র ভদ্র স্বভাবের ছিল। তার এ অকাল মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারের কাছে আহবান জানান তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান— সীতাকুণ্ডে নিহত অলিউরের পরিবারকে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও অলিউরের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থাকবে বলে জানান তিনি।




